ছবি ফাঁস ও ব্ল্যাকমেইল — বাংলাদেশ
কেউ আপনার ছবি ছড়িয়ে দিয়েছে, বা ছড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। একটা গভীর শ্বাস নিন — এর সমাধান আছে, চুপচাপই করা যায়।
যা ঘটছে তা একটি অপরাধ — দোষ যে ছড়িয়েছে তার, আপনার নয়। এখান থেকে আপনি কাউকে টাকা দেবেন না, কারও মুখোমুখি হবেন না, আর এই পেজে যা করবেন তা আপনার জীবনের কেউ জানবে না। এখন তিনটি কাজ জরুরি: টাকা দেবেন না, নিজের ফোন থেকেই ছবি সুরক্ষিত করুন, আর কিছু পোস্ট হয়ে থাকলে রিমুভের আবেদন আমরা তৈরি করে দিই — পাঠাবেন আপনি, নিজের নামে। বিনামূল্যে।
ছবি ফাঁস, এডিট করা ছবি, ডিপফেক, ফেক আইডি বা ব্ল্যাকমেইল — পথ একটাই, পাশে থাকাও একটাই।
এখন সবচেয়ে জরুরি তিনটি ধাপ
টাকা দেবেন না। প্রমাণ চুপচাপ রাখুন।
কেউ ব্ল্যাকমেইল করলে টাকা দেবেন না, দর কষাকষিও করবেন না — একবার দিলে দাবি প্রায় সবসময় বাড়ে। চ্যাট মুছবেন না: অ্যাকাউন্ট, মেসেজ আর প্রতিটি লিংকের স্ক্রিনশট নিন, এমন জায়গায় রাখুন যেখানে শুধু আপনিই ঢুকতে পারেন, তারপর ব্লক করুন।
নিজের ফোন থেকেই ছবি সুরক্ষিত করুন
আপনার বয়স ১৮ বা তার বেশি হলে StopNCII.org আপনার ফোনের ভেতরেই ছবির ডিজিটাল 'আঙুলের ছাপ' তৈরি করে — ছবিটি নিজে কখনো ফোনের বাইরে যায় না, আর কেউ জানতে পারে না। Facebook, Instagram-সহ অংশগ্রহণকারী প্ল্যাটফর্মগুলো সেই ছবি আবার আপলোড হওয়া আটকে দেয়। ছবি তোলার সময় বয়স ১৮-র কম হলে NCMEC-এর Take It Down একই কাজ বিনামূল্যে করে।
পোস্ট হয়ে গেলে, রিমুভের আবেদন আমরা তৈরি করি
লিংকটি পেস্ট করুন — সেই প্ল্যাটফর্ম যে ফরম্যাটে সাড়া দেয়, ঠিক সেই ফরম্যাটে রিপোর্ট তৈরি করে দেব, যা আপনি নিজের নামে পাঠাবেন। বিনামূল্যে, গোপনে। রিমুভের নিশ্চয়তা দিতে পারি না, তবে আমাদের তৈরি আবেদনে সত্যিই কনটেন্ট সরানো হয়েছে, আর প্রতিটি ধাপে আপনাকে জানানো হবে।
যা ঘটেছে, সেই অনুযায়ী পথ
ব্ল্যাকমেইল, ছবি ফাঁস, বা ফেক আইডি — প্রতিটির নিজস্ব পথ আছে।
যে রিপোর্টে প্ল্যাটফর্ম সত্যিই কাজ করে, সেটিই তৈরি করে দিই — শুধু পাঠানোর অপেক্ষা। আপনি কোন ক্ষেত্রে পড়েছেন তা জানার দরকার নেই; সেটা আমাদের কাজ।
কেউ আপনার ছবি পরিবারকে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছে
এই অপরাধ ভয় আর নীরবতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তিনটি কথা মনে রাখুন: এটা অপরাধ (আপনার দোষ নয়), টাকা দিলে এটা থামে না, আর আপনি একা নন। কথা বলতে চাইলে Police Cyber Support for Women — সম্পূর্ণ নারী পুলিশ ইউনিট — ফোনেই পাওয়া যায়: 01320-000888। ফোন করলে কোনো কিছুতে বাধ্য হবেন না; পরের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আপনার।
আসল ছবি অনুমতি ছাড়া ছড়ানো, বা মুখ বসিয়ে বানানো ছবি
ছবি নিজে তুলেছিলেন বা বিশ্বাস করে কাউকে পাঠিয়েছিলেন — তাতে কিছু যায় আসে না; অনুমতি ছাড়া ছড়ানোই অপরাধ। বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী ইন্টারনেটে এমন কনটেন্ট ছড়ানোর শাস্তি ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা। ছবি আসল না এডিট করা (ডিপফেক) — রিমুভ চাওয়ার অধিকার একই। লিংক দিন; রিপোর্ট আমরা তৈরি করে দেব।
আপনার নাম বা ছবি দিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট
আপনার ছবি দিয়ে ফেক Facebook বা Instagram প্রোফাইল, আপনার নামে প্রতারণা। প্রতিটি বড় প্ল্যাটফর্মে ঠিক এর জন্য আইডেন্টিটি-রিপোর্ট ফর্ম আছে, আর তা বাংলাদেশ থেকেই কাজ করে। আমরা সেটি এমনভাবে পূরণ করে দিই যাতে উত্তর কোনো অটো-রিপ্লাই না হয় — আর আপনি প্রতারকের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছাড়াই নিজের নামে জমা দেন।
আপনার হাতে যা যা আছে — সিদ্ধান্ত সবসময় আপনার
এমন সাহায্য, যা আপনি না চাইলে গোপনই থাকে।
নিচের সবকিছু বিনামূল্যে। এর কোনোটিই আপনার পরিবার, পরিচিতজন বা অপরাধীকে জানায় না।
Police Cyber Support for Women — 01320-000888
বাংলাদেশ পুলিশের সম্পূর্ণ নারী-পরিচালিত ইউনিট — তৈরিই হয়েছে যেন থানায় যেতে না হয়। ছবি ফাঁস, ব্ল্যাকমেইল, আইডি হ্যাক, হয়রানি — সবই তারা দেখে। যোগাযোগ করা বা না করা, কখন করা — সবটাই আপনার সিদ্ধান্ত, আপনার সময়ে। ফোনে নারী অফিসারের সঙ্গে কথা বলা আপনাকে কিছুতেই বাধ্য করে না।
StopNCII ও Take It Down — ফোনের ভেতরেই, নীরবে
দুটোই বিনামূল্যে, বাংলাদেশ থেকে কাজ করে, আর দুটোই আপনার নিজের ফোনে চলে: ছবি ফোনের বাইরে যায় না, আপনার নামে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা হয় না, কাউকে জানানো হয় না। StopNCII প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য; ছবির সময় বয়স ১৮-র কম হলে Take It Down।
আইন আপনার পক্ষে — পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২
অনুমতি ছাড়া কারও যৌন ছবি ধারণের শাস্তি ৮ বছর পর্যন্ত; ইন্টারনেট বা ফোনে ছড়ানোর শাস্তি ৫ বছর পর্যন্ত ও জরিমানা। প্ল্যাটফর্মে রিমুভের আবেদনের জন্য উকিল লাগে না — আবেদনে এই আইনের কথা থাকলে প্ল্যাটফর্মগুলো সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে। আইনি সহায়তা চাইলে BLAST (01715-220220) বিনামূল্যে পাশে আছে।
ভারতে (পশ্চিমবঙ্গে) থাকলে
ভারতের আইন আরও দ্রুত: আপনার অভিযোগের পর মর্ফ করা ছবি, নগ্নতা বা পরিচয় নকলের কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মকে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে হয় (২০২৬ সংশোধনী)। cybercrime.gov.in-এ Women/Children বিভাগে নাম না জানিয়েও অভিযোগ করা যায়, হেল্পলাইন 1930। রিপোর্ট তৈরির কাজটা একই — আমরা বিনামূল্যে করে দিই।
যা আপনাকে করতে হবে না
সবচেয়ে কঠিন অংশটা পেরিয়ে এসেছেন। বাকিটা নীরবে এগোতে পারে।
- —হুমকিদাতাকে টাকা দিতে হবে না। টাকা দিলে দাবি আরও বাড়ে।
- —থানায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে না। পুলিশের সাহায্য চাইলে 01320-000888 নম্বরে ফোনেই নারী অফিসার পাবেন — সিদ্ধান্ত আর সময়, দুটোই আপনার।
- —পরিবারকে জানাতে হবে না। এখানে যা-ই করুন, আপনার জীবনের কাউকে জানানো হয় না।
- —শুরু করতে উকিল লাগবে না।
- —কোনো টাকা লাগবে না। কখনোই না। যত লিংকই হোক।
- —কনটেন্টটি আর দেখতে হবে না। একটি লিংকই যথেষ্ট।
একটি লিংকই যথেষ্ট। নীরবে, আজই।
প্রতিটি ভুক্তভোগীর জন্য, প্রতিটি লিংকের জন্য, সবসময় বিনামূল্যে। কোনো কার্ড লাগে না। কাউকে জানানো হয় না।
ভুক্তভোগীদের জন্য চিরদিন বিনামূল্যে
ফেস সার্চ বিনামূল্যে, রিপোর্ট তৈরিও বিনামূল্যে। যত লিংকই হোক, যে প্ল্যাটফর্মই হোক।
চাইলে ফোনেই নারী পুলিশ অফিসার
Police Cyber Support for Women — যেন থানায় যেতে না হয়। সিদ্ধান্ত সবসময় আপনার।
একটি লিংকেই শুরু
লিংক পেস্ট করুন, রিপোর্ট আমরা তৈরি করি। পাঠাবেন আপনি, নিজের নামে — নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত আপনার হাতে।